কো-রিলেশন (Correlation), কজেশন (Causation) ও ফেইসবুকের গল্প

স্ট্যাটিস্টিক্স – ১০১ কিংবা বিজনেস রিসার্চ – ১০১ কোর্স গুলোতে একটা প্রশ্ন খুবই কমন – “কো-রিলেশনই কি কজেশন? উদাহরন সহ ব্যখ্যা করো” । কো-রিলেশন থেকে আমরা জানতে পারি দুটো ভ্যারিয়েবল এর মধ্যে কোন “কো-রিলেশনশিপ” আছে কিনা ।

মনে করি num_friends হচ্ছে একজন ব্যক্তির ফেইসবুক ফ্রেন্ডের সংখ্যা আর time_spent হচ্ছে সেই ব্যক্তি দিনে কতটুকু সময় ফেইসবুকে ব্যয় করে । একদিন সময় করে আমি বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের উপর জরিপ করে এই ডাটা কালেক্ট করি এবং কো-রিলেশন নির্নয় করি । দেখা গেলো এই ভ্যারিয়েবল দুটি পজিটিভলি কো-রিলেটেড । তার মানে যাদের ফেইসবুকে ফ্রেন্ড সংখ্যা বেশী, তারা ফেইসবুকে বেশী সময় কাটায় ।

সমস্যা হলো, এই ঘটনার পিছনে ৩ ধরনের কারন থাকতে পারে:

(১) যাদের ফ্রেন্ড সংখ্যা বেশী, তারা ফ্রেন্ডদের পোস্ট, ছবি, কমেন্ট পড়ার জন্য ফেইসবুকে বেশী সময় ব্যয় করে (“num_friends” causes “time_spent”)

(২) যারা ফেইসবুকে বেশী সময় কাটায় তারা ফটোগ্রাফি গ্রুপ, ফুডিজ গ্রুপ, নিজের ক্লাসের গ্রুপ, ডিসিপ্লিনের গ্রুপ – নানা গ্রুপে মতামত শেয়ার করে । এরফলে সমমনা অনেক মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হয় । (“time_spent” causes “num_friends”)

(৩) এরা ফেইসবুকে বেশী সময় কাটান বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে চ্যাট করে আর ফ্রেন্ড এ্যাড করেন ডিসিপ্লিনের সিনিয়র জুনিয়র সবাইকে । (none causes the other)

এখন যেহেতু আমরা নিশ্চিত না এই ৩টি ঘটনার কোনটি ঘটছে । তাই কোরিলেশন মানেই যে কজেশন – এই ধারনা আমাদের নাকচ করে দিতে হয় । এবং এটা আমরা সুন্দর করে পরীক্ষার খাতায় ব্যখ্যা করে নাম্বার পাই । তাই এর বেশী আমাদের চিন্তা করা হয়ে উঠে না ।

অন্যদিকে ফেইসবুকের বেতনভুক্ত ডাটা সায়েন্টিস্টরা কিন্তু এত সহজে পার পান না । তাদের টার্গেট আমাদের স্টুডেন্টদেরকে বেশী সময় ফেইসবুকে আটকে রাখা, এজন্য এটা নিয়ে তাদের বিশাল মাথা ব্যথা । তারা জানতে চায় বিএ ডিসিপ্লিনের এই কো-রিলেশনের পিছনে আসল ঘটনা কি । তারা ডিসিপ্লিনের স্টুডেন্টদের থেকে র‍্যান্ডম সাবসেট নিয়ে তাদের উপর এক্সপেরিমেন্ট চালায় – তাদের নিউজফিড কাস্টোমাইজ করে ফেলে এবং ২ ধরনের টেস্ট চালায় –

(১) কিছু লোকজনকে ব্যাড এর নেটওয়ার্ক থেকে পোস্ট দেখানো কমিয়ে দেয় । কিছু লোকজনকে বেশী পোস্ট দেখানো শুরু করে ।

(২) কিছু লোকজনকে বেশী বেশী ব্যাড এর সিনিয়র, জুনিয়রদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট সাজেস্ট করতে থাকে, কিছু লোকজনকে কমিয়ে দেয় ।

যেহেতু এটি একটি কল্পিত ঘটনা সেহেতু এই টেস্টের ফলাফল আমার জানা নেই । তবে প্রথম এবং দ্বিতীয় টেস্ট থেকে কিছুটা “কনফিডেন্স” পাওয়া যেতে পারে । যদি প্রথম টেস্টে দেখা যায় যে বেশী পোস্ট দেখানোর কারনে লোকজন বেশী সময় কাটাচ্ছে, আর পোস্ট কমিয়ে দেওয়ার কারনে কম সময় কাটাচ্ছে তাহলে আমরা কিছুটা আইডিয়া পাই যে আসলে num_friends causes time_spent অন্যদিকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে আমরা এর উল্টোটা জানতে পারি । আর দুটো টেস্টেই যদি নেগেটিভ রেজাল্ট পাই, তাহলে ফেইসবুকের রিসার্চ টীমের কাজ আরও বেড়ে গেলো । ৩য় কি ঘটনা ঘটতে পারে এটা নিয়ে এখন তাদের চুলচেরা বিশ্লেষন করতে হবে ।

সহজ কথায়, কোরিলেশন নিশ্চিতভাবে কজেশন মিন করে না, তবে টোটাল পপুলেশনের র‍্যান্ডম সাবসেট নিয়ে কিছু টেস্ট করে কোরিলেশনের পাশাপাশি কজেশনও আছে কিনা সে ব্যাপারে আইডিয়া পাওয়া যেতে পারে ।

পুনশ্চ: আমার এই উদাহরন সম্পূর্ন বানোয়াট হলেও ফেইসবুক তার নিউজফিড নিয়ে এক্সেপেরিমেন্ট করেছে এবং সেটার ইথিক্যাল দিক নিয়ে আলোচনা সমালোচনাও হয়েছে অনেক ।

রেফারেন্স: http://www.nytimes.com/2014/06/30/technology/facebook-tinkers-with-users-emotions-in-news-feed-experiment-stirring-outcry.html?_r=1


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *